প্রিয় উক্তি......
Monday, January 11, 2010
Saturday, March 7, 2009
ছোট গল্পঃ বিপ্রতীপ
সুমন লিমা ভাবির একনিষ্ঠ ভক্ত! ভাবির কোন কথায় সে মাটিতে ফেলে না, বাতাসে থাকতেই ধরে ফেলে, আমল করে। লিমা ভাবিকে খুব ব্যক্তিত্বসপন্ন মনে হয় তার কাছে। সোমা তার উল্টো, লিমা ভাবিকে সে তেমন গুরুত্বই দিতে চায় না, তার কথা “এই মহিলা যে কিভাবে হাসান ভাইয়ের মত লোকের ওয়াইফ হলো!”, অর্থ্যাৎ সোমার কাছে হাসান ভাই অসাধারন একজন মানুষ। তার ব্যক্তিত্ব-কথা-বার্তা-হাটাচলা সবই সোমার কাছে নায়কোচিত মনে হয়। তাই সংসারের খুটিনাটি নিয়ে হাল্কা মনোমালিন্যে হাসান-লিমা জুটি আসে অবধারিত ভাবে পারস্পরিক তুলনায়, পরস্পরকে ছোট করে যুদ্ধে জেতার চেষ্টায়। এমন না সুমন-সোমার সংসার খুব অশান্তির ছিলো বা ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো, তবে সব কিছুতেই হাসান ভাই-লিমা ভাবি! কি করবে? কি কিনবে? কোথায় বেড়াতে যাবে? সব কিছুতেই ওদের পরামর্শ নেয়া চাই, ওদের পরামর্শ মিললে ভালো, না মিল্লে প্রলয়…….
সময় যায়, দু’জনের মুগ্ধতা বিপ্রতীপ কোনে বাড়তে থাকে। সময়ে সংসারে নতুন মুখ আসে সোমা-সুমনের, একটা ফুটফুটে মেয়ে। এইবার আরেক যুদ্ধ, নামকরনের যুদ্ধ! সোমা-সুমন “এস” দিয়ে শুরু হওয়ায় মেয়ের ফার্স্ট নেম রাখে শাহানা, কিন্তু লাস্ট নেম রাখতে গিয়েই বিপত্তি! লিমা ভাবি বল্লেন নাম রাখো “শাহানা ইয়াসমিন”, সোমার পছন্দ হয় না তা, কারন হাসান ভাইয়ের মতে “ইয়াসমিন” নামটা ক্রিষ্টানদেরও হয়, বরং “শাহানা পারভিন” রাখা হোক, পারভিন মুসলিম নাম, আবার “প”তে পাক-পবিত্রও হয়! এনিয়ে ঝগড়া চলে কিছুদিন, তারপর অমিমাংসিত ভাবেই শেষ হয় ইস্যুটা, দুজনেই ভাবে স্কুলে ভর্তির সময় সে গিয়ে তার পছন্দের নামটা বসিয়ে দেবে, যে সুযোগ পায় সে সময়।
আরো কিছুদিন নিরুদ্রপ যায়, ছোট্র মেয়েটা বড় হতে থাকে, দেখতে থাকে বাবা-মা’র পছন্দের বৈপরিত্য। মাঝে মাঝে তাকে নিয়েই পক্ষ-বিপক্ষের কাড়াকাড়ি হয়, থোরাই বুঝে সে কি হচ্ছে! শুধু চিৎকার-চেচামেচি হলে নিজেই চিৎকার করে ওঠে, এতে সুমন-সোমা একটু থামে, একটু মনোযোগী হয় সন্তানের প্রতি।
এ সময়েই ঘটনা ঘটে একটা, ঘটনা মানে দুর্ঘটনা। একরাতে ডাকাত পড়ে সুমন-সোমার ফ্ল্যাটে, এ্যাপার্টমেন্টের অন্য কোন ফ্ল্যাটে না, শুধু তাদের ফ্ল্যাটেই। এ্যাপার্টমেন্টের গার্ডকে বেধে রেখে দোতলায় ওদের ফ্ল্যাটে ঠক ঠক! এরপর দরজা খুললেই হুড়মুড় করে ঢুকে তান্ডবলিলা। কিচেন থেকে বুয়া “কেডা এমন কইরা আইলো” বলে ডাকাতদের সামনে আসতেই এক থাপ্পড় দিয়ে বুয়াকে অজ্ঞান করে ফেলে রাখলো ডাকাতরা। এরপর তছনছ, সুমন-সোমাকে অস্ত্রের মুখে দাড় করিয়ে সোনা-দানা-দামি জিনিসপত্র-টাকা পয়সা নিয়ে বুক ফুলিয়েই চলে যায় ডাকাতরা, যাওয়ার আগে বলে যায়, পুলিশরে জানাইলে বা মামলা করলে খবর আছে!
পরদিন সকালে হইচই-চিৎকার, পুলিশকে ডাকবে কি ডাকবে না তা নিয়ে সোমা-সুমনের মল্লযুদ্ধ, যথারীতি পরামর্শক হিসেবে হাসান ভাই-লিমা ভাবি। লিমা ভাবির ধারনা গার্ডকে কিছু না করে বেধে রেখেছে! সুতরাং গার্ডও জড়িত এর সাথে, বেধে রেখে নাটক সাজিয়েছে সে, সুমন আশার আলো দেখে, ষড়য্ন্ত্রের গন্ধ পায়। হাসান ভাই পরেক্ষনেই নাকচ করে দেয় লিমা ভাবির ধারনা, তার মতে বুয়া এক চড় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে এটা বিশ্বাসযোগ্য না, ডাকাতরা নিশ্চিত বুয়ার পরিচিত, নিশ্চিত ওদের মধ্যে যোগসাজোশ আছে! সুতারাং এটাই নাটক, বুয়াকে ধরে প্যাদানী দিলেই বেরিয়ে যাবে থলের বিড়াল। সোমা হইহই করে সাপোর্ট করে, সুমনের পছন্দ হয় না তা, সে গোয়ার্তুমি করে, সে গার্ডকে প্যাদানি দেয়ার পক্ষপাতি। পুলিশ পরে, আগে নিজেরাই প্যাদানি দেবে কিনা…..
যাই হোক, গল্প এ পর্যন্তই আমি জানি, কারন আমি ওখান থেকে চলে এসেছি এর পর, আসার আগে দেখেছি সুমন-সোমার ছোট্ট মেয়েটাকে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আকাশের পানে চেয়ে থাকতে, বুড়ি আংগুলটা মুখে দিয়ে……..
© শরীফ-আর রাফি
Friday, February 6, 2009
Thursday, February 5, 2009
Tuesday, January 27, 2009
বর্তমান প্যাচালঃ পরিচিত মন্ডলে রাজনৈতিক ডিগবাজি
দেশটা আমাদের দুইভাগে বিভক্ত, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি। সব প্রতিষ্ঠান-মাঠ-ঘাট-পুকুর-পার্ক-বাস স্ট্যান্ড-রেল স্টেশন…. সব!
এইবার আওয়ামী লীগ জিতেছে সব ছাপিয়ে, সাভাবিক ভাবেই বানের জলে সবাই ভেসে জমা হচ্ছে আওয়ামী শিবিরে।
লেখা-পড়ার জন্য ছুটিতে বিদেশে এলেও দেশে নিজের চাকরীদাতা প্রতিষ্ঠানের খবরাখবর রাখি। আমার প্রতিষ্ঠানেও আলীগ-বিএনপির দলাদলি আছে। যাহোক, আজ একটা ইমেইল পেলাম সকালে, একজন শ্রদ্ধেয়া কলিগ, যিনি বিএনপি আমলে আমাদের উইং এর বিএনপি সমর্থিত গ্রুপের জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন, উনি এবার প্রতিষ্টানের প্রধান একটি সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত গ্রুপের পক্ষ থেকে দাড়িয়েছেন। ইমেইলটা পেয়ে অনেকক্ষন হাসলাম। হায়রে!
উচ্চশিক্ষিত লোক গুলোই বেশি ধান্দাবাজ, আবার প্রমান হলো। বিএনপি-জামাতের আমলে “বিজা” ব্র্যান্ডের মধু, আর এখন “চৌদ্দমার্কা” মধু, সব কিছুতেই এদের সমান রুচি। গত আওয়ামী আমলে একজন সিনিয়র কলিগ কে দেখেছিলাম “বংগবন্ধু গবেষনা পরিষদ” গঠন করতে। ২০০১ এর পর উনি করলেন “জিয়া গবেষনা পরিষদ”, এর পর জামাতের দিকে ঝুকলেন।
আমি সেই ইমেইলে রিপ্লাই করলাম, “আলোচ্য ব্যাক্তি ছাত্রজীবনে খুব ভালো একজন এ্যাথলেট ছিলেন, উনি ভালো করেই জানেন কিভাবে ট্র্যাকের লেন চেন্জ করতে হয়, আর কিভাবে ডিগবাজি দিতে হয়। তাকে বাহবা দিন…”
খুব মজা পাচ্ছি। একটু আগে আর একটা ইমেইল পেলাম। ইমেইলে সেই নির্বাচনে দাড়ানো অন্য একজন প্রার্থী ভোট চেয়েছেন। হুমম! ডিজিটাল বাংলাদেশ একেই বলে। ইমেইলে ভোট চাওয়া…….
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, ভাবতেই ভালো লাগছে………।
Monday, January 26, 2009
কারো পৌষ মাস তাই দুদকের আইনজীবিরা আংগুল ফুলিয়া বটগাছ!
আজকের “আমাদের সময়” এ দেখলাম নিউজটা। দুদকের দুর্নীতি বিরোধী জেহাদে সবচে লাভবান নাকি হচ্ছে বিশেষ জজ আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবিরা (পিপি)।
তারা সবাই কিনেছেন নতুন মডেলের গাড়ি। কেউ কেউ নামে বেনামে ফ্ল্যাট।
আসুন দেখি কেন তারা আংগুল ফুলে বটগাছ:
১। প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৭৫০০০ টাকা।
২। দুদকের মামলা নিস্পত্তির জন্য ৫০০০০ টাকা।
৩। দুদকের কোন মামলা খারিজ হয়নি। আর যা রায় হয়েছে তাও পেয়েছো রাষ্ট্রপক্ষ।
৪। অনেক মামলার আসামিই পলাতক। তাই রায় হচ্ছে দ্রুত। টাকাও আসছে দ্রুত।
মামলা বন্টন নিয়েও নাকি চলছে পারসুয়িং, লবিয়িং এর অভিযোগ। কেউ অনেক পাচ্ছে। কেউ মোটেও পাচ্ছে না। কেউ পাচ্ছে ২-৩টা, কেউবা ২০-২২টা। কেউ বা বেশী করে পাচ্ছে পলাতক আসামিদের মামলা। এটা নিয়ে পিপিদের মনেই অনেক ক্ষোভ। পারস্পরিক অবিশ্বাস, অভিযোগ। তবে গাড়ি কেনার টাকার উতস জিগ্গেস করলে সব শেয়ালের এক রা “ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কিনেছি”।
ফ্ল্যাট কেনার কথা সবাই এড়িয়ে গিয়ে আবার একাত্মতা দেখিয়েছেন।
আহা! কারো সর্বনাশ, কেউ ফুলে বটগাছ। মানুষের পাপের দালালী করা এই শালারা এই সুযোগেও হাতিয়ে নিচ্ছে অনেক টাকা। আগে করতো আম্বা-বিম্পি-জামাত। এখন মুআ-ফুআর দুদক। লবিয়িং উনারা এখানেও ভুলতে পারেননি। আশাকরি সামনের দিন গুলোতেও উনাদের এই পারফরমেন্সে ভাটা পড়বে না।
চলুক। মেথররা না থাকলে ময়লা পরিস্কার করবে কে?
খবরের লিন্ক: ওয়ান ইলেভেনের ফায়দা নিচ্ছেন বিশেষ আদালতের পিপিরা!
কমন কৌতুক: প্রিয় ফল
একখান কমন কৌতুক কই। কম বেশি সবারই জানার কথা। আমি ব্লগে জমা রাখলাম
একবার হোয়াইট হাউস থেইকা বাংলাদেশের তিন প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানকে হোয়াইট হাউসে ব্রেকফাস্টের দাওয়াত দেয়া হইলো। তবে অনুরোধ করা হইলো তারা যেন তাদের প্রিয় ফল সাথে কইরা নিয়া আসেন, ঐটা তাদের পিছন দিয়া ঢুকাইয়া দেয়া হইবো। প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানরা হইলেন শেখ মুজিব, জিয়া, এরশাদ। কিন্তু উনাদের সেক্রেটারীরা রাষ্ট্রপ্রধানদের ব্যক্তিগত রসিকতা ধইরা পেছনে ঢুকানোর লাইনটা অনুবাদ না কইরাই দিলো।
যথাসময়ে একে একে তিনজন নিজেদের প্রিয় ফল নিয়া হোয়াইট হাউসে হাজির। এবং শেষের কামটাও করা শুরু হইলো। শেখ মুজিব নিছিলো জাম, জিয়া লিচু। মুজিব ব্যাথায় কাতরাইতেছে, কিন্তু জিয়া হাসে। শেখ মুজিব কইলো “কিরে তুই হাসছ ক্যা? আমারে জাম দিছে তাই আমি কানতাছি, আর তোরে তো কাটাআলা লিচু দিছে?”
জিয়া কয় “আমি এরশাদের কথা ভাইবা হাসতেছি, হারামজাদা আইতেছে কাঠাল লইয়া।”
(বি:দ্র: এই কৌতুকটা কওয়ায় আমি বোথ ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের বন্ধুগো কাছে গাইল খাইছি, কেন বুঝি নাই)