প্রিয় উক্তি......
চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়..........
Thursday, April 4, 2013
Saturday, February 19, 2011
Friday, May 28, 2010
ব্যবসা আর দেনা শোধের গল্প
লিখেছেন : মলিকিউল ০৮ অক্টোবর (বুধবার), ২০০৮ ৫:৫৮ অপরাহ্ন
দুইটা ১৮+ কৌতুক পইড়া আমারো খায়েস জাগলো একটা দেয়ার। ব্লগে যাদের দেখতেছি, কমন পড়ার সম্ভাবনাই বেশী। তাও দেই।
ব্যবসা আর দেনা শোধঃ দিনের ৩য় ১৮+
ছুটির একদিনে রাহাত তার বউ রেখারে নিয়া জন্মদিনের ড্রেসে বাথটাবে জলকেলী করতেছে। গায়ে ফেনা লাগায়া আবার ধোয়াধুয়িও চলতেছে। এমন সময় বাসার কলিং বেল বাইজা উঠলো। রাহাত আইলসামি কইরা কইলো "রেখা জান, তোয়ালে প্যাচাইয়া যাওনা, দেখো কে আইসে?"
স্বামীভক্ত রেখা তাই করে। একটা তোয়ালেতে শরীর ঢাইকা দরজা খুইলা দেখে পাশের বাড়ীর আনিস ভাই। জিগাইলো কি দরকার, রাহাত গোছলে আছে। আনিস একটু ভাইবা কইলো "আইছিলাম এমনিতেই, থাক পরেই আমু আবার। তয় আপনে চাইলে একটা ব্যবসা করতে পারেন। ইন্সট্যান্ট এখানেই।"
রেখা উৎসাহী হয়, কয় "কিরাম ব্যবসা?"
আনিস ব্যবসার প্রস্তাব দিলো তখন, "যদি আপনে তোয়ালের উপরের অংশ খুইলা দেখান, তাইলে আমি আপনেরে ৫০০০ টাকা দিমু।"। রেখার ভাবলো, শুধু তো দেখবো, ৫০০০ টাকা তো কম না। সে খুইলা দেখাইলো। আনিস চোখ ভইরা দেখলো আর দিলো ৫০০০ টাকা।
নেশা চাপসে দুইজনেরই। আনিস এইবার কইলো "যদি পুরাটাই খুইলা ফেলেন তাইলে দিমু আরো ৫০০০।"
রেখা ভাবলো একি কথা, দেখবোই তো। দিলো খুইলা। আনিস দেইখা আরো ৫০০০ দিয়া গেলো গা।
রেখা খুব খুশী, ১০০০০ টাকা এত সহজে ইনকাম হইলো, খুশীতে গেলো স্বামীরে জানাইতে। স্বামী রে কইলো "পাশের বাসার আনিস ভাই আইছিলো..।"
রাহাত কথা কাইরা নিয়া কয় " আনিসে টাকা দিছে নি, ১০০০০ টাকা পাইতাম, ধার নিছিলো।
Monday, January 11, 2010
Saturday, March 7, 2009
ছোট গল্পঃ বিপ্রতীপ
সোমা আর সুমন এলাকার নতুন আসার পর থেকেই ওদের দেখছি। একি এ্যাপার্টমেন্টে আমার পাশের ফ্ল্যাটে উঠলো এই নব-দম্পতি। আসার পরই পরই ওদের একই বিল্ডিং-এর বয়সে সিনিয়র হাসানভাই-লিমা ভাবির খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যেতে দেখলাম। খুবই ঘনিষ্ঠ, তবে ঘনিষ্ঠতার ধরনটা একটু অন্যরকম।
সুমন লিমা ভাবির একনিষ্ঠ ভক্ত! ভাবির কোন কথায় সে মাটিতে ফেলে না, বাতাসে থাকতেই ধরে ফেলে, আমল করে। লিমা ভাবিকে খুব ব্যক্তিত্বসপন্ন মনে হয় তার কাছে। সোমা তার উল্টো, লিমা ভাবিকে সে তেমন গুরুত্বই দিতে চায় না, তার কথা “এই মহিলা যে কিভাবে হাসান ভাইয়ের মত লোকের ওয়াইফ হলো!”, অর্থ্যাৎ সোমার কাছে হাসান ভাই অসাধারন একজন মানুষ। তার ব্যক্তিত্ব-কথা-বার্তা-হাটাচলা সবই সোমার কাছে নায়কোচিত মনে হয়। তাই সংসারের খুটিনাটি নিয়ে হাল্কা মনোমালিন্যে হাসান-লিমা জুটি আসে অবধারিত ভাবে পারস্পরিক তুলনায়, পরস্পরকে ছোট করে যুদ্ধে জেতার চেষ্টায়। এমন না সুমন-সোমার সংসার খুব অশান্তির ছিলো বা ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো, তবে সব কিছুতেই হাসান ভাই-লিমা ভাবি! কি করবে? কি কিনবে? কোথায় বেড়াতে যাবে? সব কিছুতেই ওদের পরামর্শ নেয়া চাই, ওদের পরামর্শ মিললে ভালো, না মিল্লে প্রলয়…….
সময় যায়, দু’জনের মুগ্ধতা বিপ্রতীপ কোনে বাড়তে থাকে। সময়ে সংসারে নতুন মুখ আসে সোমা-সুমনের, একটা ফুটফুটে মেয়ে। এইবার আরেক যুদ্ধ, নামকরনের যুদ্ধ! সোমা-সুমন “এস” দিয়ে শুরু হওয়ায় মেয়ের ফার্স্ট নেম রাখে শাহানা, কিন্তু লাস্ট নেম রাখতে গিয়েই বিপত্তি! লিমা ভাবি বল্লেন নাম রাখো “শাহানা ইয়াসমিন”, সোমার পছন্দ হয় না তা, কারন হাসান ভাইয়ের মতে “ইয়াসমিন” নামটা ক্রিষ্টানদেরও হয়, বরং “শাহানা পারভিন” রাখা হোক, পারভিন মুসলিম নাম, আবার “প”তে পাক-পবিত্রও হয়! এনিয়ে ঝগড়া চলে কিছুদিন, তারপর অমিমাংসিত ভাবেই শেষ হয় ইস্যুটা, দুজনেই ভাবে স্কুলে ভর্তির সময় সে গিয়ে তার পছন্দের নামটা বসিয়ে দেবে, যে সুযোগ পায় সে সময়।
আরো কিছুদিন নিরুদ্রপ যায়, ছোট্র মেয়েটা বড় হতে থাকে, দেখতে থাকে বাবা-মা’র পছন্দের বৈপরিত্য। মাঝে মাঝে তাকে নিয়েই পক্ষ-বিপক্ষের কাড়াকাড়ি হয়, থোরাই বুঝে সে কি হচ্ছে! শুধু চিৎকার-চেচামেচি হলে নিজেই চিৎকার করে ওঠে, এতে সুমন-সোমা একটু থামে, একটু মনোযোগী হয় সন্তানের প্রতি।
এ সময়েই ঘটনা ঘটে একটা, ঘটনা মানে দুর্ঘটনা। একরাতে ডাকাত পড়ে সুমন-সোমার ফ্ল্যাটে, এ্যাপার্টমেন্টের অন্য কোন ফ্ল্যাটে না, শুধু তাদের ফ্ল্যাটেই। এ্যাপার্টমেন্টের গার্ডকে বেধে রেখে দোতলায় ওদের ফ্ল্যাটে ঠক ঠক! এরপর দরজা খুললেই হুড়মুড় করে ঢুকে তান্ডবলিলা। কিচেন থেকে বুয়া “কেডা এমন কইরা আইলো” বলে ডাকাতদের সামনে আসতেই এক থাপ্পড় দিয়ে বুয়াকে অজ্ঞান করে ফেলে রাখলো ডাকাতরা। এরপর তছনছ, সুমন-সোমাকে অস্ত্রের মুখে দাড় করিয়ে সোনা-দানা-দামি জিনিসপত্র-টাকা পয়সা নিয়ে বুক ফুলিয়েই চলে যায় ডাকাতরা, যাওয়ার আগে বলে যায়, পুলিশরে জানাইলে বা মামলা করলে খবর আছে!
পরদিন সকালে হইচই-চিৎকার, পুলিশকে ডাকবে কি ডাকবে না তা নিয়ে সোমা-সুমনের মল্লযুদ্ধ, যথারীতি পরামর্শক হিসেবে হাসান ভাই-লিমা ভাবি। লিমা ভাবির ধারনা গার্ডকে কিছু না করে বেধে রেখেছে! সুতরাং গার্ডও জড়িত এর সাথে, বেধে রেখে নাটক সাজিয়েছে সে, সুমন আশার আলো দেখে, ষড়য্ন্ত্রের গন্ধ পায়। হাসান ভাই পরেক্ষনেই নাকচ করে দেয় লিমা ভাবির ধারনা, তার মতে বুয়া এক চড় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে এটা বিশ্বাসযোগ্য না, ডাকাতরা নিশ্চিত বুয়ার পরিচিত, নিশ্চিত ওদের মধ্যে যোগসাজোশ আছে! সুতারাং এটাই নাটক, বুয়াকে ধরে প্যাদানী দিলেই বেরিয়ে যাবে থলের বিড়াল। সোমা হইহই করে সাপোর্ট করে, সুমনের পছন্দ হয় না তা, সে গোয়ার্তুমি করে, সে গার্ডকে প্যাদানি দেয়ার পক্ষপাতি। পুলিশ পরে, আগে নিজেরাই প্যাদানি দেবে কিনা…..
যাই হোক, গল্প এ পর্যন্তই আমি জানি, কারন আমি ওখান থেকে চলে এসেছি এর পর, আসার আগে দেখেছি সুমন-সোমার ছোট্ট মেয়েটাকে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আকাশের পানে চেয়ে থাকতে, বুড়ি আংগুলটা মুখে দিয়ে……..
© শরীফ-আর রাফি
সুমন লিমা ভাবির একনিষ্ঠ ভক্ত! ভাবির কোন কথায় সে মাটিতে ফেলে না, বাতাসে থাকতেই ধরে ফেলে, আমল করে। লিমা ভাবিকে খুব ব্যক্তিত্বসপন্ন মনে হয় তার কাছে। সোমা তার উল্টো, লিমা ভাবিকে সে তেমন গুরুত্বই দিতে চায় না, তার কথা “এই মহিলা যে কিভাবে হাসান ভাইয়ের মত লোকের ওয়াইফ হলো!”, অর্থ্যাৎ সোমার কাছে হাসান ভাই অসাধারন একজন মানুষ। তার ব্যক্তিত্ব-কথা-বার্তা-হাটাচলা সবই সোমার কাছে নায়কোচিত মনে হয়। তাই সংসারের খুটিনাটি নিয়ে হাল্কা মনোমালিন্যে হাসান-লিমা জুটি আসে অবধারিত ভাবে পারস্পরিক তুলনায়, পরস্পরকে ছোট করে যুদ্ধে জেতার চেষ্টায়। এমন না সুমন-সোমার সংসার খুব অশান্তির ছিলো বা ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো, তবে সব কিছুতেই হাসান ভাই-লিমা ভাবি! কি করবে? কি কিনবে? কোথায় বেড়াতে যাবে? সব কিছুতেই ওদের পরামর্শ নেয়া চাই, ওদের পরামর্শ মিললে ভালো, না মিল্লে প্রলয়…….
সময় যায়, দু’জনের মুগ্ধতা বিপ্রতীপ কোনে বাড়তে থাকে। সময়ে সংসারে নতুন মুখ আসে সোমা-সুমনের, একটা ফুটফুটে মেয়ে। এইবার আরেক যুদ্ধ, নামকরনের যুদ্ধ! সোমা-সুমন “এস” দিয়ে শুরু হওয়ায় মেয়ের ফার্স্ট নেম রাখে শাহানা, কিন্তু লাস্ট নেম রাখতে গিয়েই বিপত্তি! লিমা ভাবি বল্লেন নাম রাখো “শাহানা ইয়াসমিন”, সোমার পছন্দ হয় না তা, কারন হাসান ভাইয়ের মতে “ইয়াসমিন” নামটা ক্রিষ্টানদেরও হয়, বরং “শাহানা পারভিন” রাখা হোক, পারভিন মুসলিম নাম, আবার “প”তে পাক-পবিত্রও হয়! এনিয়ে ঝগড়া চলে কিছুদিন, তারপর অমিমাংসিত ভাবেই শেষ হয় ইস্যুটা, দুজনেই ভাবে স্কুলে ভর্তির সময় সে গিয়ে তার পছন্দের নামটা বসিয়ে দেবে, যে সুযোগ পায় সে সময়।
আরো কিছুদিন নিরুদ্রপ যায়, ছোট্র মেয়েটা বড় হতে থাকে, দেখতে থাকে বাবা-মা’র পছন্দের বৈপরিত্য। মাঝে মাঝে তাকে নিয়েই পক্ষ-বিপক্ষের কাড়াকাড়ি হয়, থোরাই বুঝে সে কি হচ্ছে! শুধু চিৎকার-চেচামেচি হলে নিজেই চিৎকার করে ওঠে, এতে সুমন-সোমা একটু থামে, একটু মনোযোগী হয় সন্তানের প্রতি।
এ সময়েই ঘটনা ঘটে একটা, ঘটনা মানে দুর্ঘটনা। একরাতে ডাকাত পড়ে সুমন-সোমার ফ্ল্যাটে, এ্যাপার্টমেন্টের অন্য কোন ফ্ল্যাটে না, শুধু তাদের ফ্ল্যাটেই। এ্যাপার্টমেন্টের গার্ডকে বেধে রেখে দোতলায় ওদের ফ্ল্যাটে ঠক ঠক! এরপর দরজা খুললেই হুড়মুড় করে ঢুকে তান্ডবলিলা। কিচেন থেকে বুয়া “কেডা এমন কইরা আইলো” বলে ডাকাতদের সামনে আসতেই এক থাপ্পড় দিয়ে বুয়াকে অজ্ঞান করে ফেলে রাখলো ডাকাতরা। এরপর তছনছ, সুমন-সোমাকে অস্ত্রের মুখে দাড় করিয়ে সোনা-দানা-দামি জিনিসপত্র-টাকা পয়সা নিয়ে বুক ফুলিয়েই চলে যায় ডাকাতরা, যাওয়ার আগে বলে যায়, পুলিশরে জানাইলে বা মামলা করলে খবর আছে!
পরদিন সকালে হইচই-চিৎকার, পুলিশকে ডাকবে কি ডাকবে না তা নিয়ে সোমা-সুমনের মল্লযুদ্ধ, যথারীতি পরামর্শক হিসেবে হাসান ভাই-লিমা ভাবি। লিমা ভাবির ধারনা গার্ডকে কিছু না করে বেধে রেখেছে! সুতরাং গার্ডও জড়িত এর সাথে, বেধে রেখে নাটক সাজিয়েছে সে, সুমন আশার আলো দেখে, ষড়য্ন্ত্রের গন্ধ পায়। হাসান ভাই পরেক্ষনেই নাকচ করে দেয় লিমা ভাবির ধারনা, তার মতে বুয়া এক চড় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যাবে এটা বিশ্বাসযোগ্য না, ডাকাতরা নিশ্চিত বুয়ার পরিচিত, নিশ্চিত ওদের মধ্যে যোগসাজোশ আছে! সুতারাং এটাই নাটক, বুয়াকে ধরে প্যাদানী দিলেই বেরিয়ে যাবে থলের বিড়াল। সোমা হইহই করে সাপোর্ট করে, সুমনের পছন্দ হয় না তা, সে গোয়ার্তুমি করে, সে গার্ডকে প্যাদানি দেয়ার পক্ষপাতি। পুলিশ পরে, আগে নিজেরাই প্যাদানি দেবে কিনা…..
যাই হোক, গল্প এ পর্যন্তই আমি জানি, কারন আমি ওখান থেকে চলে এসেছি এর পর, আসার আগে দেখেছি সুমন-সোমার ছোট্ট মেয়েটাকে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আকাশের পানে চেয়ে থাকতে, বুড়ি আংগুলটা মুখে দিয়ে……..
© শরীফ-আর রাফি
Friday, February 6, 2009
Thursday, February 5, 2009
Subscribe to:
Posts (Atom)
